নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম (১৯) হত্যা মামলার দীর্ঘ ২ বছর ৬ মাস পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট।
এ ঘটনায় জড়িত ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, ফতুল্লা থানার মামলা নং-২৪, তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৩, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী মামলাটি তদন্তাধীন ছিল। তদন্তে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। একই এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে আতিকুলের কাছ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিনি আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নেন।
পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে, বুকে ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে।
পরে মরদেহ আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুরে ফেলে দেয়।
ঘটনার দুই দিন পর, ১১ নভেম্বর ২০২৩ সকালে স্থানীয়রা পুকুরে ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে ২০২৬ ভোরে আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি শান্ত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—শান্ত হোসেন (২৭),আহাদ আলী (২৩),রুবেল (৩২), আশিক (২৩),জুম্মন (২৩),জাহিদ হাসান শুভ (২৫)
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শান্ত হোসেন ও আহাদ আলী আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন