বিশেষ প্রতিনিধি:-
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন অনুকে একটি মামলায় গ্রেফতার করেছে ডিবি ও পুলিশ। ১৪ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে যৌথ অভিযানে ঢাকার ওয়ারীর একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানাযায় গত ১৩ মে আড়াইহাজার পৌরসভার কৃষ্ণপুরা গ্রামের ডাক্তার গোলাম মোস্তফার স্ত্রী সীমা আক্তার বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ার হোসেন অনু ও তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলাদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার সহ ১৬ জনকে নামীয় ও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে চাঁদাবাজি লুটপাট ও মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয় ১৩ মে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:৩০ মিনিট আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী সহ সকল বিবাদীরা সীমার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। পরে তারা সীমার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে তখন সীমা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদীরা সীমা ও তার মেয়ে স্মৃতিকে মারধর করে নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে মামলার আসামি সীমার মেয়ে তাসনুভা জাহান পারুল জানান, আমার মা সীমা আক্তার আমাকে ও আমার বোনকে ছোট রেখে ২৩/২৪ বছর আগে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। পরে আমার বাবা তাকে ডিভোর্স দিয়া দেন। এবং বাবা আমাদের দুই বোনকে তার সমস্ত সম্পদ লিখে দেন। এখন আমার বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন। ২৫ বছর পর আমার মা সীমা আক্তার ১৮ এপ্রিল জোরপূর্বক আমাদের বাড়িতে এসে উঠেন। আমাদের দুই বোনের সম্পদ লিখে নেওয়ার জন্য সিমা আক্তার আমাদের বিভিন্ন ভাবে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। ১০মে আমার মা সিমা আক্তার তার লোকজন দিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে স্বর্ণ গয়না, রড, সিমেন্ট, ইট এবং পুকুর থেকে সকল মাছ ধরে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ১২ মে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আমার মা সীমা সহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা দায়ের করি। এ মামলার কথা জেনে সিমা ১৪ মে আমাদের নামে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ঐদিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। ওই দিন সীমা আক্তার আমার বোন ,দাদী ও বাবাকে জিম্মি করে লুটপাট করেছিল। আমার ছোট বোনের ফেসবুক লাইভ দেখে এলাকাবাসী তাদেরকে জিম্মি থেকে উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন অনুর স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান উদ্দেশ্য প্রণীত হয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে এই মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবি জানাচ্ছি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন