নারায়ণগঞ্জ( আড়াইহাজার) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুল হক ডালিমকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এক সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এই চেয়ারম্যান এখন নিজেকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী ফয়জুল হক ডালিম বিগত সময়ে একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্টের পর দুই দফা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যতের আইনি ঝুঁকি এড়াতে তিনি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে নতুন পরিচয়ে উপস্থাপনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় পদধারী একজন নেতা হয়েও প্রশাসনিক সভা, আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কার্যক্রমে চেয়ারম্যান ডালিমের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, “ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বদল এখন পুরোনো কৌশল। তবে হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি যদি প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকেন, তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”
অভিযোগের আরেকটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ড্রেজার ব্যবসা ও নদীভিত্তিক বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের নদীপথ ও ড্রেজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে, যেখানে চেয়ারম্যান ডালিমের ঘনিষ্ঠদের প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ড্রেজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী জয়নাল সাত্তারের কর্মকাণ্ডেও চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়া রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়নে আধিপত্য ধরে রাখতে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাবও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক বিভাজন, ভয়ভীতি এবং উত্তেজনা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বলেন, “গত কয়েক বছরে এলাকায় যেসব বিতর্ক, ড্রেজার সিন্ডিকেট, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সঙ্গে চেয়ারম্যান ডালিমের নাম বারবার এসেছে। এখন আবার রাজনৈতিক পরিচয় বদলের মাধ্যমে নতুন অবস্থান তৈরির চেষ্টা চলছে।”
তবে চেয়ারম্যান ফয়জুল হক ডালিম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “আমি কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এদিকে সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের বিভিন্ন সভা ও সরকারি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও আইনি অবস্থান যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়তে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে আড়াইহাজারজুড়ে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন